ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ , ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কে এই ভূমি কর্মকর্তা ইসমাইল? কোথায় পেলেন ৩০ কোটি টাকার সম্পদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-২৯ ২১:২৪:০১
কে এই ভূমি কর্মকর্তা ইসমাইল? কোথায় পেলেন ৩০ কোটি টাকার সম্পদ। কে এই ভূমি কর্মকর্তা ইসমাইল? কোথায় পেলেন ৩০ কোটি টাকার সম্পদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজে সরকারি চাকরিজীবী হয়েও অসদুপায়ে সরকারের কাছ থেকে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত ‘বীর নিবাস’ প্রকল্পের ঘর হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চুয়াডাঙ্গার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা বাবার নামে বরাদ্দ নেওয়া সেই সরকারি ঘরটি বিক্রির শর্তে অন্যের জমিতে নির্মাণ এবং পরবর্তীতে তা বিক্রি করে দেওয়ার মতো গুরুতর জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। চুয়াডাঙ্গা শহর ও আলমডাঙ্গার বাড়াদী গ্রামে নামে-বেনামে তাঁর গড়ে তোলা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পাহাড়ের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, ইসমাইল হোসেনের বাবা একজন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা। সরকারের তরফ থেকে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিত করতে ‘বীর নিবাস’ প্রকল্প চালু করা হলেও, সচ্ছল ও সরকারি চাকরিজীবী (ভূমি সহকারী কর্মকর্তা) হওয়া সত্ত্বেও ইসমাইল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে এই ঘর নিজের নামে বা পরিবারের অনুকূলে বরাদ্দ নেন।


সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই ঘরটি নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্য এক ব্যক্তির জমিতে নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘরটি মূলত বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি গোপন চুক্তির মাধ্যমে অন্যের জমিতে তোলা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা চড়া দামে বিক্রিও করে দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার শামিল।


একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে নামমাত্র সরকারি বেতন পেলেও ইসমাইল হোসেনের সম্পদের পরিমাণ আকাশচুম্বী। তাঁর আয়ের উৎসের সাথে সম্পদের এই বিশাল ব্যবধান দেখে হতবাক স্থানীয়রা। তাঁর উল্লেখযোগ্য সম্পদের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:


* চুয়াডাঙ্গা শহরে আলিশান বাড়ি: চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাইম লোকেশনে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তুলেছেন বহুতল বিশিষ্ট বিলাসবহুল বাড়ি।

* নামে-বেনামে স্থাবর সম্পত্তি: নিজের এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে চুয়াডাঙ্গা ও এর আশেপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক জমি কিনেছেন।

* আলমডাঙ্গায় সম্পদের পাহাড়: তাঁর পৈতৃক এলাকা আলমডাঙ্গার বাড়াদী গ্রামে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি, বাগান এবং বিশাল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ইসমাইল হোসেনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান মোট সম্পদের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে বৈধ আয়ে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।


এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব না দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন। উত্তেজিত কণ্ঠে ইসমাইল হোসেন বলেন, "বিষয়টা নিয়ে তদন্ত চলছে, আমার কর্তৃপক্ষ এটা দেখবে। এটা নিয়ে নিউজ করার কী আছে?"


তদন্তাধীন বিষয়ের অজুহাত দেখিয়ে তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।


একজন ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি কর্মকর্তার এমন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো সম্পদ অর্জনের পেছনে পদাধিকার বলে দুর্নীতির আশ্রয়, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং ঘুষ বাণিজ্য জড়িত বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে জরুরি হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সরকারের এত বড় আবাসন প্রকল্প (বীর নিবাস) নিয়ে জালিয়াতি এবং ৩০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার পরও কীভাবে বহাল তবিয়তে নিজ পদে দায়িত্ব পালন করছেন ইসমাইল হোসেন?


 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ